রবিবার, ১২ Jul ২০২৬, ০১:৩১ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : করোনায় বিপর্যস্ত বিশ্ব। এ কারণে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এবার মা দিবস উদযাপন করেছে অনলাইনের মাধ্যমে।
এই প্রথম মায়েরা গুগল মিট এর মাধ্যমে সরাসরি ছাত্র, শিক্ষক ও কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনলাইনে শুভেচ্ছা পেলেন। হাতে তৈরি শুভেচ্ছা কার্ড প্রদর্শনী, কবিতা আবৃত্তি ও পারস্পরিক অনুভূতি বিনিময় ছিল এ আয়োজনের প্রধান আকর্ষণ। দিনটি উপলক্ষে স্কুলের পক্ষ থেকে মায়েদের উদ্দেশ্যে নিবেদন করা হয় একটি শ্রদ্ধাপত্র।
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রিন্সিপাল ড. মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের সুকুমার বৃত্তির বিকাশ ঘটাতে ক্যারিকুলামের বাইরেও বিভিন্ন আয়োজন করে থাকি। এটি ছিল তেমন একটি আয়োজন। যেহেতু করোনাভাইরাসের কারণে সবকিছু বন্ধ, তাই বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে মায়েদের আমরা শুভকামনা জানানোর জন্য এই প্লাটফর্মকে বেছে নিয়েছি।
মা দিবস উপলক্ষে সব মায়েদের সম্মান জানাতে উৎসর্গ করা ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শ্রদ্ধাপত্রটির অনুলিপি প্রকাশ করা হলো।
মা, ছোট্ট একটা শব্দ। কিন্তু কি বিশাল তার পরিধি। আমাদের জীবনে মা এমন একটা জায়গা যা আমরা ঠিক সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারি না। কখনো মনে হয় মা আমাদের সেই বটবৃক্ষ যেখানে জীবনের কঠোর তপ্ত রোদের মধ্যে একফালি ছায়া, যেখানে আমরা চলার পথে কিছুটা বিশ্রাম পাই।
সন্তানের এমন কোনো অনুভূতি নেই যা কিনা মায়ের অজানা আর সন্তানের জীবনের এমন কোনও সমস্যা নেই যার সমাধান মায়ের স্নেহ আর হাসিমাখা মুখ সহজতর না করে দেয়। মা হলো পরম আশ্বাস, চরম বিশ্বাস। যে মানুষের কাছে তার মায়ের স্নেহ থাকে, সেই স্নেহ ভালোবাসায় পৃথিবী জয় করতে পারে।
জগদ্বিখ্যাত মনীষী আব্রাহাম লিংকন বলেছিলেন, ‘যার মা আছে সে কখনই গরিব নয়।’ হুমায়ূন আহমেদ বলেছিলেন, ‘মা হলো পৃথিবীর একমাত্র ব্যাংক, যেখানে আমরা আমাদের সব দুঃখ, কষ্ট জমা রাখি এবং বিনিময়ে নিই বিনা সুদে অকৃত্রিম ভালবাসা।’
মায়েরা কেমন হয়? খুবই সহজ, অথচ অনেক কঠিন একটা প্রশ্ন। তা প্রকাশ করার জন্য কোনও শব্দ বা বাক্য যথেষ্ট নয়।
মা এমন একজন মানুষ যে নিজে না খেয়ে তার সন্তানকে খাওয়ান। সন্তানের হাসি মুখ দেখলে তার মনোপ্রাণ খুশিতে ভরে ওঠে। মায়েরা সারা জীবন সন্তানদের জন্য তাদের জীবনের সুখ, শান্তি, স্বাচ্ছন্দ্য ত্যাগ করে। সারাজীবন শুধুমাত্র কিভাবে তার সন্তান ভালো থাকবে তার চিন্তায় তার দিন কাটে। মায়ের কাছে সেই সোনার কাঠি রূপার কাঠি টা থাকে যেটা দিয়ে লম্বা প্রশান্তির ঘুম চলে আসে এক পলকে! মায়ের সাথে শুধু কথা বলে এক এমন শান্তি পাওয়া যায় যা আমাদের সারা দিনের সমস্ত ক্লান্তি দূর করে দেয়, এক অদ্ভুত ভালো লাগায় ভরে উঠে মন। জীবনে মা ছাড়া আমরা সকলেই অচল।
জন্মদাত্রী হিসেবে আমার, আপনার, সবার জীবনে মায়ের স্থান সবার ওপরে৷ তাই তাকে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা জানানোর জন্য একটি বিশেষ দিনের হয়ত কোনও প্রয়োজন নেই৷ তারপরও আধুনিক বিশ্বে মে মাসের দ্বিতীয় রোববারটিকে ‘মা দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে, বিংশ শতাব্দীতে যার সূত্রপাত হয়েছিল ১৯১৪ সালে।
এবার আসি আমাদের কথায়। বেঁচে থাকতে কতদিন, কতবার মাকে আদর করেছি আমরা? কতবার মা’কে বুকের সাথে জাপটে ধরে বলেছি ‘মা, তোমায় ভালোবাসি’? জীবনচক্রের ঘূর্ণন শুরু হয় সেই জন্মলগ্ন থেকে৷ এরপর ছোটবেলা কাটিয়ে উঠে কৈশোর, যৌবন, প্রৌঢ়ত্ব, বার্ধক্য আর সবশেষে অনিবার্য মৃত্যু৷ এই ধ্রুব সত্য শুধু আপনার-আমার নয়, সবার জন্য। অথচ বেঁচে থাকার প্রতিটা মুহূর্তে আমাদের সত্তা ‘মা’ তোমাকে ভালোবাসি’ বলে জানান দিচ্ছে না?
জীবনের মৌলিক স্তরগুলোতে মায়ের চেয়ে বড় শিক্ষাগুরু, মায়ের চেয়ে বড় রক্ষাকর্তা, সন্তানের জন্য আর কেউ হতে পারে না। তাই আমাদের সবার ভাবা উচিত মায়ের প্রতি আমাদের ভালোবাসাটা শুধু যেনো Face Book, whatsapp status এর মধ্যে আটকে না থাকে, আমাদের ভালোবাসাটা যেনো শুধু লাইক কমেন্টের জন্যে না হয়, মাকে ভালোবাসার জন্য যেন আমরা শুধু বছরের এই একটা দিন পালন না করি। আমাদের কাছে প্রতিটি দিনই যেনো mother’s day হয়! মা’র প্রতিটি দিন যেন ভরে ওঠে সন্তানের বিশুদ্ধ ভালোবাসায়।
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের মা সহ পৃথিবীর সকল মায়ের প্রতি রইলো অকৃত্রিম শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা।
নগরকন্ঠ.কম/এআর